মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ প্রতিটি ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ
ব্রেকিং নিউজ
কৃষি

মার্কিন কর্টেভার বালাইনাশকের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন, পক্ষান্তরে আড়াই বছর ধরে ঝুলছে দেশীয়দের আবেদন

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রায় এক হাজার বালাইনাশক প্রতিষ্ঠানের ৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ পণ্যের পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কর্টেভা এগ্রিসায়েন্স বাংলাদেশ লিমিটেডের চারটি রাসায়নিক বালাইনাশক অনুমোদন দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।
এ ঘটনায় দেশীয় বালাইনাশক কোম্পানিগুলো বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিটাক) ৯১তম সভায় কর্টেভার পণ্য চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সভায় ৪৫টি জৈব বালাইনাশকও অনুমোদন পায়।
অনুমোদিত রাসায়নিক বালাইনাশক চারটি হলো সোলারিস ১১.৭ এসসি, গ্যালিলিও ওয়ে ১৮.৭৬ এসসি, গ্যালিলিও সেনসা ৩০ এসসি ও নোভিক্সিড ৩.৪১ ওডি। ভুট্টা, ধান ও ঢেঁড়শের বিভিন্ন পোকা, রোগ ও আগাছা দমনে ব্যবহারের জন্য পণ্যগুলো অনুমোদন পেয়েছে। এসব পণ্যের নিবন্ধন সনদের মেয়াদ তিন বছর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ মে পিটাকের ৮৮তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৯১তম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় নতুন বালাইনাশক ও জৈব বালাইনাশকের নিবন্ধন সনদ ও লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। তবে সর্বশেষ সভায় বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির চারটি রাসায়নিক বালাইনাশকের অনুমোদন দেওয়ায় দীর্ঘদিন আটকে থাকা দেশীয় কোম্পানিগুলোর আবেদনের ফাইল আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে বালাইনাশক ব্যবসায়ীদের মাঝে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। 
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ৪ হাজার ৬০৩টি পণ্যের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৩০০টির পরীক্ষাগার পরীক্ষা এবং আরও প্রায় ২ হাজার ৩০০টির মাঠপর্যায়ের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরও এসব পণ্যের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন কার্যক্রম স্থবির থাকায় নতুন পণ্য বাজারজাতকরণ, বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যের নিবন্ধনের জন্য সরকারি ফি, পরীক্ষাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করলেও আবেদনকারীরা সময়মতো সিদ্ধান্ত পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সঠিক কোন তথ্য দেয়া হচ্ছে না। এক অর্থে আবেদনকারীদের অনেকটা অন্ধকারে রাখা হয়েছে।
অথচ একই সময়ে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি কর্টেভার চারটি রাসায়নিক বালাইনাশক অনুমোদন পাওয়ায় আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, নতুন কার্যকর বালাইনাশকের নিবন্ধন দীর্ঘদিন আটকে থাকলে বাজারে নতুন পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ক্ষতিকর পোকামাকড়, রোগ ও আগাছা দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “পিটাক মিটিং অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কয়েকটি কোম্পানিকে সনদ দেওয়া হয়েছে, এতটুকু জানি। এবিষয়ে বিস্তারিত পিটাক সভাপতি বলতে পারবেন।”
বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিপিএ) সভাপতি সাইদুজ্জামান বলেন, অপেক্ষমাণ দেশীয় কোম্পানিগুলোর পণ্যের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন বিষয়ে বিসিপিএর পক্ষ থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে আবেদনগুলোর অনুমোদন দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এর আগে সাব-পিটাকের সভায় বলা হয়েছিল, পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সভা ডাকা হবে। কিন্তু তা আর হয়নি।”
দীর্ঘদিন ধরে দেশের সহস্রাধিক কোম্পানির পণ্যের অনুমোদন আটকে রেখে বিদেশি কোম্পানির পণ্যের দ্রুত অনুমোদন দেওয়ায় বালাইনাশক সংশ্লিষ্ট মহলে চাপা ক্ষোভ, হতাশা ও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য (০)

সব মন্তব্য মডারেশনের পর প্রকাশিত হয়, সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। · সাইন ইন

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

খবরে থাকুন

প্রতিদিন সকালে সর্বশেষ সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে