বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ প্রতিটি ঘণ্টাই গুরুত্বপূর্ণ
ব্রেকিং নিউজ
কৃষি

উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বালাইনাশক কম ব্যবহার হলেও খাদ্যকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব হচ্ছে না

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা, ইউরোপের মত উন্নত দেশগুলোতে বিঘা প্রতি বালাইনাশকের ব্যবহার বাংলাদেশের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হলেও তাদের উৎপাদিত খাদ্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। অথচ বাংলাদেশে বালাইনাশক ব্যবহারের হার কম হলেও, উৎপাদিত খাদ্যকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব হচ্ছে না। 
দেশে খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে কৃষিতে বালাইনাশকের ব্যবহার কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু সম্প্রতি একটি মহল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিজ্ঞানসম্মত সমাধান খোঁজার পরিবর্তে, বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 
পরিবেশের ক্ষতি ও খাদ্যে বিষ মেশানোর একক দায় চাপানো হচ্ছে দেশের উদীয়মান বালাইনাশক শিল্পের ওপর। অথচ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বালাইনাশক কোনো সাধারণ পণ্য নয়, এটি একটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক। সমস্যাটি বালাইনাশকের নয়, বরং এর সঠিক ব্যবহার, প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনার। 
আমেরিকা, জাপান বা ইউরোপের মতো উন্নত দেশগুলোতে প্রতি বিঘা জমিতে বাংলাদেশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি (ক্ষেত্র বিশেষে ২ থেকে ৬ গুণ বা তারও বেশি) বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়। অথচ, তাদের উৎপাদিত খাদ্যই বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। এর মূল কারণ হলো প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিখুঁত বৈজ্ঞানিক হিসাব। উন্নত দেশগুলো সেন্সরভিত্তিক ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বা নিখুঁত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তারা বালাইনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিট’ এবং রাসায়নিকের ‘অর্ধায়ু’ নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে। ফলে ফসল কাটার সময় খাদ্যে কোনো বিষাক্ত অংশের অবশিষ্টাংশ থাকে না।
উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে বালাইনাশকের ব্যবহার কম হলেও উৎপাদিত খাদ্যকে পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো উপক্রান্তীয় জলবায়ুতে প্রাকৃতিকভাবেই পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ বেশি। ফসল সুরক্ষায় বালাইনাশক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। নানা কারণে বাংলাদেশে বালাইনাশকের নিরাপদ ও যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দেশের অধিকাংশ কৃষক জানেনই না মোড়কজাত প্যাকেটের উপর লাল-হলুদ চিহ্নিত বিপদ সংকেতের অর্থ কি! কোন বালাইনাশক কখন, কি মাত্রায় ফসলে প্রয়োগ করতে হয়। স্প্রে করার কতদিন পর ওই ফসলটি সংগ্রহ, খাওয়া বা বাজারজাত করা যাবে, সে সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত ধারনা নেই। ফসল সংগ্রহের অপেক্ষমান সময়ের তোয়াক্কা না করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃষক তার উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করছেন। অপরিপক্ক ফসল নীরবে পরিনত হচ্ছে অনিরাপদ খাদ্যে।
সরকারের নির্দেশনা না মেনে ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র বালাইনাশকের দোকান গড়ে ওঠা, অনুমোদিত লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা, পণ্য সম্পর্কে বিক্রেতার ধারণা না থাকা, ভেজাল বা নকল বালাইনাশক বিক্রি করার ফলে সহজ-সরল কৃষকরা শুধু প্রতারিতই হচ্ছেন না, আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বালাইনাশক ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে বাজারে ভেজাল বা মানহীন কীটনাশক বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অনুমোদিত মাত্রার বাইরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড কেমিকাল কৃষিতে প্রবেশ করছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ মাঠ পর্যায়ে বালাইনাশক সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। 
কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধি, বালাইনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিট’ বজায় রাখা এবং রাসায়নিকের অর্ধায়ু নিখুঁতভাবে মেনে চলা সম্ভব হলে খাদ্যে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব। বালাইনাশক শিল্পের ইতিবাচক অবদানকে স্বীকার করে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার পথ অনুসরণ করলেই কেবল বাংলাদেশে ‘নিরাপদ খাদ্যের’ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে -এমনটা প্রত্যাশা সবার।

মন্তব্য (০)

সব মন্তব্য মডারেশনের পর প্রকাশিত হয়, সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। · সাইন ইন

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

খবরে থাকুন

প্রতিদিন সকালে সর্বশেষ সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে